, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
​ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে বিদায়

ইলন মাস্কের নতুন রাজনৈতিক দল 'আমেরিকা পার্টি'

  • আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৫ ১২:৫১:৪৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৭-২০২৫ ১২:৫১:৪৭ অপরাহ্ন
ইলন মাস্কের নতুন রাজনৈতিক দল 'আমেরিকা পার্টি' ইলন মাস্ক। ছবি- এপি

ইলন মাস্ক ঘোষণা করেছেন যে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটি দুই পার্টি সিস্টেমের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (টুইটার) মাধ্যমে 'আমেরিকা পার্টি' নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করেন। যদিও দলটি নিবন্ধিত হয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়, তিনি জানিয়েছেন যে এটি দেশের রাজনীতিতে একটি পরিবর্তন আনবে।
 
ইলন মাস্ক, যিনি জন্ম সূত্রে মার্কিন নাগরিক না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অযোগ্য, এখনও দলের নেতৃত্ব কে দেবে সে সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি। তবে, তার এই সিদ্ধান্ত মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিশেষত যখন তিনি দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান দলের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন।
 
মাস্কের নতুন দল গঠনের প্রস্তাব প্রথম আসে তার ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে। সম্প্রতি তিনি ট্রাম্পের প্রশাসনে কাজ করছিলেন, কিন্তু কিছু আর্থিক এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তিনি তার পদত্যাগ করেন। এরপর, তিনি ট্রাম্পের নীতি ও পরিকল্পনার ব্যাপারে তীব্র সমালোচনা করতে শুরু করেন। তার এমন সমালোচনার পর, মাস্ক এক বার্তা পোস্ট করেন যেখানে তিনি তার অনুসারীদের কাছে জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা উচিত কিনা?
 
উক্ত জরিপের ফলাফল ছিল বেশ স্পষ্ট। মাস্কের অনুসারীরা প্রায় ২-১ ভোটের ব্যবধানে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। মাস্ক তার পোস্টে লিখেছেন, যখন আমাদের দেশকে অপচয় ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেউলিয়া করা হচ্ছে, তখন আমরা একদলীয় ব্যবস্থা নিয়ে বসে আছি, যা গণতন্ত্র নয়।
 
এই ঘোষণার পরপরই, বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আলোচনা শুরু করেছেন যে, মাস্কের নতুন দলটি মার্কিন রাজনীতিতে কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও মাস্ক একটি নতুন দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তৃতীয় দলের পক্ষে জায়গা তৈরি করা একটি কঠিন কাজ হতে পারে। অতীতে, তৃতীয় দলের প্রার্থীরা চেষ্টা করলেও দেশের প্রধান দুটি দলের প্রভাবকে কাবু করতে পারিনি।
 
গত বছর, গ্রীন পার্টি, লিবারটারিয়ান পার্টি এবং পিপলস পার্টি প্রার্থীরা ট্রাম্প এবং কমলা হ্যারিসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, তবে তাদের তেমন কোনো সাফল্য ছিল না। তবুও, মাস্কের নতুন দলটি যদি সত্যিই প্রভাব ফেলে, তবে তা দেশটির রাজনীতির জন্য নতুন একটি দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
 
মাস্কের বিরুদ্ধে কিছু সমালোচনা রয়েছে, বিশেষত তার পূর্বে রিপাবলিকান দলের প্রতি সমর্থন এবং ট্রাম্পের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে। তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন এবং সেই সময়টাতে ট্রাম্পের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে, ট্রাম্পের নীতি এবং বাজেট পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তিনি তার মতামত প্রকাশ করতে শুরু করেন, যা তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।
 
বিশেষভাবে, মাস্কের লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের বাজেট পরিকল্পনা, যা ব্যাপক খরচ এবং কর কমানোর ব্যাপারে ছিল। এই পরিকল্পনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব ঘাটতি আগামী দশ বছরে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে, যা মাস্কের ব্যবসা, বিশেষ করে টেসলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি পরিবেশবান্ধব গ্রীন ট্রানজিশনে কোনও ধরনের সরকারি সহায়তার বিরোধিতা করেছেন।
 
এছাড়াও, ট্রাম্প মাস্কের জন্য সহায়তা প্রদান নিয়ে কথা বলেছেন এবং তাঁর দাবি, মাস্ক যদি সরকারি সহায়তা না পেতেন, তাহলে সম্ভবত তার কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যেত। এতে মাস্কের বিরুদ্ধে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যা তাদের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি করে।
 
এখন পর্যন্ত, মাস্কের এই নতুন রাজনৈতিক দলের সম্পর্কে বিশদ তথ্য পাওয়ার জন্য কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে, কারণ ফেডারেল ইলেক্টোরাল কমিশনের কাছে দলটি নিবন্ধিত হয়েছে কি না, তা এখনও পরিষ্কার হয়নি। তবে, মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তার পরিকল্পনার ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
 
মাস্কের সিদ্ধান্তের পক্ষে এবং বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত উঠে এসেছে। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, তার দলটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তৃতীয় দলের হিসেবে ভূমিকা রাখবে এবং বিশেষত কিছু জনগণের কাছে এটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান দল, রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটিক, এত শক্তিশালী যে তৃতীয় দলের জন্য জায়গা তৈরি করা খুবই কঠিন হবে।
 
এদিকে, মাস্ক তার নতুন দলের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আনতে চান, তবে তার দলটি রাজনৈতিক দুনিয়ায় কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারবে তা সময়ই বলে দেবে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
​বিশ্বকাপ নাটকে নতুন মোড়, টি-২০ বিশ্বকাপে এখনো  বাংলাদেশের সুযোগ!

​বিশ্বকাপ নাটকে নতুন মোড়, টি-২০ বিশ্বকাপে এখনো বাংলাদেশের সুযোগ!